লিনাক্স

BLUA থেকে

লিনাক্স হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। আপনার কম্পিউটারটি চালাতে হার্ডওয়্যারের পরই যে জিনিসটি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম। আর কার্নেল হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেমের প্রাণ। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টরভাল্ড ইউনিক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ‘মিনিক্স’ নিয়ে শখের বশে কাজ করতে করতে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে লিনাক্স তৈরি করে ফেলেন একটি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। তার নামানুসারেই এর নামকরণ হয় লিনাক্স। এরপর থেকে ওপেনসোর্স এই সিস্টেম কার্নেলটি নিয়ে কাজ করেছেন পৃথিবীর বাঘা বাঘা সব প্রোগ্রামারগণ। যার ফলাফল নির্ভরযোগ্য, দক্ষ এবং অত্যন্ত নিরাপদ একটি সিস্টেম কার্নেল।


পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] লিনাক্স ডিস্ট্রো

লিনাক্স সিস্টেম কার্নেলের সাথে বিভিন্ন রকম ব্যবহারীদের উপযোগী ইজজার ইন্টাফেস ও প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করে তৈরি হয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন বা সংক্ষেপে লিনাক্স ডিস্ট্রো। এমনকি যথেষ্ট কারিগরি জ্ঞান থাকলে আপনি নিজেও নিজের প্রয়োজন অনুসারে ডিস্ট্রো বানিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্টোগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে; উবুন্টু, ফেডোরা, লিনাক্স মিন্ট, ওপেনসুসে, রেডহ্যাট, ডেবিয়ান, ম্যান্ড্রিভা ইত্যাদি।


[সম্পাদনা] লিনাক্স ব্যবহারের সুবিধা

[সম্পাদনা] নিরাপত্তা

লিনাক্স কার্নেলের বিশেষ ডিজাইনের কারণে কোনরকম ফায়ারওয়াল ও অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ছাড়াই লিনাক্সের নিরাপত্তা প্রায় নিশ্ছিদ্র। লিনাক্সে ভাইরাস, স্প্যামওয়্যার, অ্যাডওয়্যার ইত্যাদি কাজ করে না বলে অতিরিক্ত কোন উপদ্রব নেই। এমন কি আপনি আপনার বন্ধুর উইন্ডোজের ভাইরাসভর্তি পেন ড্রাইভটিও আপনার লিনাক্স সিস্টেমে ঢুকিয়ে কাজ করতে পারেন নিশ্চিন্তে। ঢুকালে আপনার লিনাক্স ভাইরাস আক্রান্ত হবেনা এবং ভাইরাস ফাইল গুলো আপনি দেখতে ও মুছে ফেলতে পারবেন।

[সম্পাদনা] স্টেবল

লিনাক্স খুবই স্টেবল একটি অপারেটিং সিস্টেম। আপনি মাসের পর মাস রিস্টার্ট না করেই লিনাক্স চালাতে পারবেন আর কোন এ্যাপলিকেশন হ্যাং করলেও আপনার লিনাক্স মেশিন হ্যাং হবেনা আপনি উক্ত এ্যাপলিকেশনটি বন্ধ করে দিতে পারবেন।

[সম্পাদনা] ব্যবহারবান্ধব

লিনাক্সের নাম শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে গিজগিজে চুলদাড়িওয়ালা আধপাগলা কেউ খটরমটর করে একগাদা কমান্ড টাইপ করে চলেছেন। লিনাক্সের সেসব দিন এখন অতীত। বর্তমানে লিনাক্সের গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস খুবই শক্তিশালী এবং দৃষ্টিনন্দন। এর ডিস্ট্রোগুলোর ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টগুলো এত বেশি কাস্টোমাইজেবল যে আপনি অনয়াসে আপনার লিনাক্সকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে পারবেন। গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের পাশাপাশি আছে শক্তিশালী কমান্ড লাইন ব্যবহারের সুযোগ। এ দুটোর সমন্বিত ব্যবহার আপনার কম্পিউটার চালনাকে দিতে পারে এক ভিন্ন মাত্রা।

[সম্পাদনা] দ্রুততা

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমগুলো বিভিন্ন কারনে মন্থর হয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হচ্ছে, এলোমেলো ফাইল সজ্জা (ফ্যাগমেন্টেশন), রেজিস্ট্রির অব্যবহৃত উচ্ছিষ্টাংশ এবং ভাইরাস। লিনাক্সের জার্নালাইজিং ফাইল সিস্টেম শুরু থেকে ডাটা ক্লাস্টারগুলো সাজিয়ে রাখে বলে ফ্র্যাগমেন্টেশনের সুযোগ নেই। লিনাক্স সিস্টেম অব্যবহৃত রেজিস্ট্রি জমা রাখে না এবং লিনাক্সে ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে না বলে লিনাক্সে সাবলীল দ্রুতগতি বজায় থাকে সহজেই।

[সম্পাদনা] গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট

কম্পিজ ফিউশনের ব্যবহার আপনাকে দেবে দারুণ কিছু গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট। আপনি এর কিছু কিছু গ্রাফক্যাল ইফেক্টগুলোর ডেমো দেখতে পাবেন compiz-fusionসাইটে অথবা ইউটিউবে এই ভিডিওগুলো দেখুন।

[সম্পাদনা] পর্যাপ্ত সফটওয়্যার

লিনাক্সে সকল কাজের জন্যই পর্যাপ্ত সফটওয়্যার আছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যারেরই বিকল্প আপনি পাবেন লিনাক্সে এবং অবশ্যই বিনামূল্যে।


[সম্পাদনা] জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রো লিঙ্ক

[সম্পাদনা] কিছু উল্লেখযোগ্য লিঙ্ক

ব্যক্তিগত হাতিয়ারসমূহ